
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ শয়ন কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মন্ডল (৫২) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৬)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার রাতে ছেলে মুক্তার হোসেনসহ তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমাতে যান স্বামী-স্ত্রী। ভোর রাত সাড়ে ৩ টার দিকে নিহতদের ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের খবর দিলে তারা এসে খাটের উপর স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পায়। নিহত লোকমান মন্ডল দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর চাকুরী করেন এবং বাবা-মায়ের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ছেলে মুক্তার হোসেন মাদকদ্রব্য সেবনসহ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এসব টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ দিলে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে একই কায়দায় খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে খাবারগুলো ফেলে দিলে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির কিছু হাঁস মারা যায়। নিহতের ছেলে মুক্তার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৩ টার দিকে টয়লেট সেরে যাওয়ার সময় বাবা-মায়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে লাইট মেরে দেখি খাট থেকে বাবার পা ঝুলে আছে। ঘরের ভিতরে গিয়ে তাদেরকে ডাক দিলে কোন সাড়া না পেয়ে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জেলকদ হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোটে কীটনাশক পানে অথবা খাবারে কীটনাশক প্রয়োগে তাদের মুৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু শরীরে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।