
বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত, গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে এখন তাদের একমাত্র ভরসা টিনের তৈরি ডুঙ্গা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই ডুঙ্গায় চলাচল করছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার মধ্যে রয়েছে ১৫টি চর। এসব চরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের বসবাস। কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধিতে ফসলি জমি ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার চকরাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পানিবন্দি এসব মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি।
চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ ডুঙ্গা নিয়ে পদ্মায় মাছ ধরছেন। পরে সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে কোনোভাবে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন শিকদার বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের কমিউনিটি ক্লিনিকটি নদীভাঙনে ইতোমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে এখন সব এলাকাতেই পানি উঠেছে। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ও নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি পদ্মার গর্ভে চলে যেতে পারে।
কালিদাসখালী চরের বাসিন্দা শেখ রবিউল ইসলাম, বয়স ৩৫ বছর। তিনি বলেন, পদ্মার চরের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। প্রতিবছর বন্যা মোকাবিলা করেই তাদের জীবন কাটাতে হয়। টিনের তৈরি ডুঙ্গা দিয়েই পারিবারিক নানা কাজ করতে হয়। বাড়িতে দুটি গরু রয়েছে। গরুর খাবার সংগ্রহ করে ডুঙ্গায় করে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়। বাড়ির ভেতরেও পানি জমে আছে। কাজকর্ম নেই, অথচ এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তাও পাওয়া যায়নি।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চরের প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানিবন্দি মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এখন টিনের তৈরি ডুঙ্গা। প্রয়োজনীয় কাজেও তাদের ঝুঁকি নিয়ে ডুঙ্গায় চলাচল করতে হচ্ছে। এরপরও এখন পর্যন্ত পানিবন্দি মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, পদ্মার চরের পানিবন্দি মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সহায়তা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।