
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিল ও নির্বাচনের দাবিতে আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল। পূর্বঘোষণা ছাড়াই সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রোববার রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে ঘোষিত এ কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ না করে কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটি। তাদের দাবি, অবিলম্বে বর্তমান কমিটি বাতিল করে তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
সোমবার সকাল থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ভদ্রা, শিরোইল ও রেলগেট এলাকার বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, বাস না চলায় হাজারো যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। অনেকে জরুরি কাজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে এসে চরম বিপাকে পড়েন।
ময়মনসিংহগামী এক শিক্ষার্থী রফিক বলেন, সকালে কাউন্টারে এসে জানতে পারি বাস চলবে না। জরুরি কাজে যাওয়ার কথা ছিল, এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব বুঝতে পারছি না।
ঢাকায় হাইকোর্টে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপদে পড়েছে। এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করে আন্দোলন করা ঠিক নয়।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, ফেডারেশনের ঘোষিত কমিটি বাতিল করে আহ্বায়ক কমিটির অধীনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট ও চাকা বন্ধ কর্মসূচি চলবে।
এ বিষয়ে নতুন ঘোষিত কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।