
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হকের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে হেনস্তা এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ (৫৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজপাড়া থানায় এ অভিযোগ করেন রামেবির সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
মামলার বিষয়টি বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিশ্চিত করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপকমিশনার গাজীউর রহমান। তিনি জানান, রামেবির কর্মকর্তারা থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আব্দুস সামাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তাকে দুপুরে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হকের পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সময় উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও পদত্যাগ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগত কিছু লোক হঠাৎ জোর করে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের পরিবর্তে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে তারা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জোর করে একটি পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর নেন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।