
বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় স্ত্রী জুসি খাতুনকে (৩০) ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি স্বামী জহুরুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জহুরুল ইসলাম বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে স্ত্রী জুসি খাতুনকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন জহুরুল ইসলাম। ঘটনার পর তিনি বাড়ির পাশের খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বলেন, ‘আমার আগে পিছে কিছুই নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ পরে সেখান থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন জহুরুল ইসলাম মাঠে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় তাদের দেড় বছরের সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামাতে স্ত্রীকে বলেন জহুরুল। এর আগে ঋণের কিস্তির টাকা নিতে এসে এক এনজিওকর্মী গালমন্দ করে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জহুরুল ইসলাম খেজুরগাছের ডাল কাটার ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত জুসি খাতুন বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মালিগাছা গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা লুৎফর রহমান বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে ১৬ সেপ্টেম্বর বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জহুরুল ও জুসি খাতুনের প্রায় নয় বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দেড় বছরের জায়ান হোসেন ও সাত বছরের জিহাদ হোসেন নামে দুই সন্তান রয়েছে।
বাঘা থানার তদন্ত ওসি সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও আত্মগোপনে থাকা জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।