
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার চাতাল ও চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল নিয়ে প্রায় ৬২ লাখ টাকা পরিশোধ না করে আজমীর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু নওহাটা এলাকার ২৮ জন ব্যবসায়ীর কাছেই তাঁর প্রায় ৬২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া মৌগাছি ও কেশরহাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছেও ৪০ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নওহাটা বাজারের তপন বাবুর চাউল মিলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চাতাল ও চাল ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নওহাটা এলাকার চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রব।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান শিশু ও তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী আজমীর রহমানের সঙ্গে তাঁরা প্রায় এক বছর ধরে চালের ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসার শুরুতে আজমীর রহমান নিয়মিত চাল নিয়ে নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধ করতেন। এতে তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়।
তবে চলতি বছরের আগস্ট থেকে লেনদেনে অনিয়ম দেখা দেয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। একাধিকবার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, আজমীর রহমান এলাকায় নেই। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পরে তাঁরা জানতে পারেন আগের রাতে আজমীর রহমান মেহেরচণ্ডীর বাসা থেকে চলে গেছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজমীর রহমানের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দগাছি ভাটপাড়া এলাকায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একসঙ্গে চাল নেওয়ার পর টাকা পরিশোধ না করেই তিনি চলে গেছেন। একই সঙ্গে আজমীর রহমানের ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াহিদুজ্জামান শিশু তাঁদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে সহযোগিতা করছেন না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি দুর্ব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শিশুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যবসায়ী নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মো. মোকবুল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক করেন। পরে তাঁদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়। তবে সেখানে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাঁদের। পরে পবা থানায় গিয়েও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, তাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান না। পাওনা টাকা ফেরতের পাশাপাশি তাঁরা আইনগত প্রতিকার চান। আজমীর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনা, অভিযোগ তদন্ত করে ওয়াহিদুজ্জামান শিশুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন এবং বাকি দিয়েছেন। পুলিশের কাজ বাকি টাকা উঠিয়ে দেওয়া নয়। ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে দেওয়ানি আদালতে যেতে পারেন। তবে কোনো ফৌজদারি অপরাধ হয়ে থাকলে পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে চাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক, আবু বকরসহ প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।