
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা ও বলদিয়াঘাট এলাকার কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সীমান্তবর্তী চকচকি ও সাতবিলা মাঠ থেকে ধান পরিবহনের একমাত্র কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ ও নানা ঝুঁকি নিয়ে ফসল আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পানি সেখানে জমে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাঠ থেকে ধান বহনকারী পাওয়ার টলি ও ট্রাক্টর চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় যানবাহন উল্টে গিয়ে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, মাঠ থেকে কাটা ধান বাড়িতে আনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে মাঠে পড়ে থাকা ধানের শীষে চারা গজাতে শুরু করেছে, ফলে ফসলের অপচয়ও বাড়ছে।
সরেজমিনে কলমুডাঙ্গা ও বলদিয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চকচকি ও সাতবিলা মাঠের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া একমাত্র কাঁচা সড়কটি অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। এসব গর্তের কারণে ধানবাহী টলি ও ট্রাক্টর চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পেরে অনেক কৃষক উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে রাস্তার দুরবস্থা যোগ হওয়ায় মাঠ থেকে ধান পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।
এ বিষয়ে পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পরিষদ কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য তরিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তার গর্তগুলোতে ইটের খোয়া বা বালি ফেলে চলাচল উপযোগী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তার সংস্কার ও কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।