1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : অনলাইন ভার্সন : অনলাইন ভার্সন
  6. [email protected] : omor faruk : omor faruk
  7. [email protected] : R khan : R khan
জুতাপেটার শিকার নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত - খবর ২৪ ঘণ্টা
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

জুতাপেটার শিকার নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে জুতাপেটার শিকার নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান কলেজ পরিদর্শন করে এ নির্দেশ দেন।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে আলিয়া খাতুন ও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ঘটনার ব্যাপারে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দাওকান্দি সরকারি কলেজে গিয়েছিলেন একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজকেরা। তাঁরা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুজনকে থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ।

এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপির কর্মী শাহাদত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাঁকে আপত্তিকর একটি বাজে কথা বললে তিনি চড় মেরেছেন। পাল্টা শাহাদাত আলী তাঁকে জুতা খুলে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে শাহাদাত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফা অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে মারধর করেছেন।

এরপর ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মী এসে তৃতীয় দফা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষ ও আলিয়া খাতুনকে মারধর করেন। মোহা.আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি কলেজে গিয়ে দেখেন, অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও আলিয়া খাতুন আসেননি।

তাঁদের ফোনও বন্ধ। পরে বিকল্প উপায়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত আলিয়া খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার একজন শিক্ষক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আজ রোববারের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন এবং অধ্যক্ষ ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের জমা দেওয়ার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত শনিবার দাওকান্দি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই সময়সীমা দিয়েছিলেন। এদিকে নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করা মৎস্যচাষি ও বিএনপির কর্মী শাহাদাত আলীকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই তিনি কলেজে ঢুকে ওই শিক্ষককে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন।

রোববার সকালে কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক কলেজে আসেননি। হামলার শিকার প্রদর্শক আলিয়া খাতুনও আসেননি। কথা বলার জন্য অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার দিন তাঁর মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনার দিন অধ্যক্ষ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। প্রদর্শক আলিয়া খাতুন জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে তিনি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো কলেজে যাওয়ার মতো হয়নি। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পরেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই রয়েছেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।

তাঁকে পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। আর অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুন এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবর২৪ঘন্টা/এসএফ

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

Developed By Khobor24ghonta Team