
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে হত্যা মামলায় গ্রামের নিরীহ মানুষকে আসামি করে হয়রানির প্রতিবাদ এবং তাদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সজনাই গ্রামের পাকা সড়কে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে আব্দুল আলীম, আব্দুল আজিজ, মানিক মিয়া, কামরুল হাসান বর্ষণ, শান্তা খাতুন, খাদিজা পারভীনসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আব্দুল বারেক ওরফে বাকি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও তার স্ত্রী রেশমা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে ওই মামলায় গ্রামের জাকির, মতিন, মাহমুদ, উজ্জল, আওয়াল, মোস্তব ও দেলোয়ারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সময় এসব ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এরপরও মামলায় তাদের আসামি করায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পুলিশের ভয়ে পরিবার ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে পুলিশ নিরীহ কিংবা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন কাউকে হয়রানি করবে না।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সজনাই গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে আব্দুল বারেক ওরফে বাকি বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার পাঁঠা ছাগলকে গোসল করাতে নিয়ে গেলে প্রতিবেশী জাহের মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবি ও তার স্ত্রী রেশমা বাকিকে মারধর করেন। এ সময় বাঁশ ও কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আব্দুল বারেক মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত বারেকের চাচা ওয়াহাব প্রামাণিক বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় রবি ও তার স্ত্রী রেশমাসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও রেশমাকে গ্রেপ্তার করে।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।