1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : admin : admin admin
  6. [email protected] : nahid islam : nahid islam
  7. [email protected] : R khan : R khan
গোদাগাড়ীতে ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস পালিত - খবর ২৪ ঘণ্টা
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

গোদাগাড়ীতে ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস পালিত

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘যেখানে অধিকার-বঞ্চনা, সেখানেই হুল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সিসিবিভিওর উদ্যোগে, ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড (জার্মানি)-এর সহযোগিতায় এবং রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি ও গ্রামসংগঠনসমূহের আয়োজনে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পথসভা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

সিসিবিভিওর শাখা কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে কাকনবাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাকনহাট পৌরসভা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সিষ্টি টুডু।

আলোচনা সভায় সান্তাল হুল দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন সিসিবিভিওর কর্মসূচি কর্মকর্তা যোসেফ রাম দাস হাঁসদা। এছাড়া বক্তব্য দেন রক্ষাগোলা সংগঠনের নেতা রিপন টুডু, জুলিতা মূর্মূ ও রঘুনাথ পাহাড়িয়া।

বক্তারা বলেন, ১৭১ বছর আগে সংঘটিত সান্তাল হুল কেবল একটি বিদ্রোহ নয়, বরং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সমতলের আদিবাসীরা এখনো ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তাই হুল দিবস আজও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে।

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রথম সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থান। এই আন্দোলনের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

বক্তারা সাঁওতাল বিদ্রোহের মহানায়ক দুই ভাই সিধু মুরমু ও কানু মুরমুসহ চার ভাই সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের দুই বোন ফুলোমনি মুরমু ও ঝালোমনি মুরমুর অবদানের কথাও তুলে ধরেন। ব্রিটিশ শাসক, সামন্ত জমিদার, মহাজন ও তাদের সহযোগীদের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। তারা সান্তাল হুলের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ ও আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

খবর২৪ঘন্টা/মইসে

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

 
Developed By Khobor24ghonta Team