
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চলন্ত কাভার্ড ভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের আটটি লাগেজ চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি যাওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও তালা ভাঙার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গন্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। পুলিশ জানায়, মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে দুটি, টাঙ্গাইলে দুটি ও নাটোরে একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সোহান রহমান ও রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি করে মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে রাজশাহী ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট দল। অন্যদিকে, বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে দলের ৫৪টি লাগেজ ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হচ্ছিল। বুধবার সকালে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে এ ঘটনায় দলের ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে বুধবার ভোরে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস মোড়ে কাভার্ড ভ্যানের চালক গাড়ির তালা পরীক্ষা করে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। পরে ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে পুঠিয়ার তারাপুর মোড়ে চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের পেছনে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি উঠে দরজার তালা ভেঙে লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যান।
তিনি জানান, পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবকে জানান। পরে সজীব গাড়ি থামিয়ে দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। এরপর দরজা বন্ধ করে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজ চুরি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও নগদ আট হাজার টাকা। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।
ক্রিকেটার মেহরব হাসান জানান, লাগেজে থাকা অন্যান্য মালামাল উদ্ধার হলেও তাঁর তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন আরও জানান, এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।