
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন নবাগত বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বিএডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সারের মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করে কৃত্রিম সংকট ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বিভাগে বাস্তবায়নাধীন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় দপ্তর প্রধান ও আট জেলার জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সারের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রকৃত মজুদ, বরাদ্দ ও বিতরণের তথ্য যাচাই করে গণমাধ্যমসহ জনগণের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। ভর্তুকিমূল্যের সার যথাযথভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপব্যবহার, মজুদদারি ও পাচার রোধে কঠোর নজরদারি করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সার পাচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় সার ডিলারদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী সার ডিলারের গুদামে পৌঁছেছে কি না এবং গুদাম থেকে প্রকৃত কৃষকের কাছে যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে বলা হয়। এ সময় একটি ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধারের তথ্যও সভায় জানানো হয়।
কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী মৌসুমভিত্তিক সার সরবরাহের পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগ, কম্পোস্ট ও জৈব উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় কৃষকদের সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, লার্ভিসাইড ও ফগিং এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সড়ক প্রশস্তকরণের সময় দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলো যথাসম্ভব সোজা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইডার স্থাপন এবং নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে জনগণকে আগাম অবহিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সব উপজেলায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা, উপজেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক পাচার ও কারবার বন্ধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারি দপ্তরগুলোকে সমন্বয় ও টিমওয়ার্কের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।