
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংলাপ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তারা বলেছেন, ভয়মুক্তভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল যুগের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা ও মানবাধিকার শিক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজশাহী নগরীর হোটেল এক্স-এর কনফারেন্স রুমে ÔDialogue on Freedom of Expression: Advancing Awareness and Responsible Civic EngagementÕ শীর্ষক একটি সংলাপে সংলাপে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ২৭জন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ার।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই আইনসম্মতভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া তথ্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বাংলাদেশ কার্যালয়ের মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হলেও তা অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানিমূলক ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধে আইনসম্মত ও মানবাধিকারসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরামের রাজশাহীর আহ্বায়ক রাশেদ রিপন ও আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির সংলাপ পরিচালনা করেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন, সমাজকর্মী হাসিনুল ইসলাম চুন্নু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম. কে. নোমান, আইন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলীম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক ফুয়াদ নাসের, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য মাথিং মার্মা, আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজওয়ার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঞ্জনা সরকার, আদিবাসী নারী নেত্রী সাবিত্রী হেমব্রম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।