
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর অপরাধপ্রবণ মোহাম্মদপুর এলাকা নিয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে এবং এই এলাকা বিশেষ নজরে আছে বলেই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।
মোহাম্মদপুরকে বলা হয় ঢাকার ‘জঙ্গল সলিমপুর’। ঢাকার মধ্যে থাকার পরও আপনারা কেন এখানে মনোযোগ দিতে পারছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের এই সমস্যাটা কি আজকে উদ্ভব হয়েছে? এটার সলিউশনটা (সমাধান) কি? এটা দীর্ঘদিনের একটা পুঞ্জীভূত সমস্যা। ওই এলাকাটি এখন বলা যায় অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের পরিকল্পনা আছে। একটু সময় লাগবে। কারণ ওভারনাইট এটা নির্মূল করা হয়তো সম্ভব হবে না, বাট (কিন্তু) আমরা পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছি। ওই এলাকার জন্য আমাদের একটা বিশেষ নজর আছে।’
তিনি বলেন, যেহেতু ওখানে (মোহাম্মদপুরে) ঘনবসতি এবং অধিবাসীদের মধ্যে অনেকেই… আমি এটা ব্লেম করতে চাই না, ওখানে একটু মাদকের বিস্তারও বেশি। তা আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনেও সংস্কার করছি। সামনে আপনারা দেখতে পাবেন। আর জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং এগুলোর জন্যও আলাদা আইন নিয়ে আসছি। কারণ অপরাধীদের ধরার পরে খুব বেশিদিন আটকে রাখা যাচ্ছে না ওই আইনের কারণে। সুতরাং এটা যুগোপযোগী আইন করা দরকার।
রামিসা হত্যা মামলা
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি এ মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। বাকি সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা, আলোচনা করা সঠিক নয়। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা, তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাক্ষীদের নিয়ে যাওয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ করানো—এগুলো আমরা করাচ্ছি। বাকিটা বিচারকের ফাংশন এবং বিচার কার্য নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না।
তিনি বলেন, তবে যেহেতু সবার প্রত্যাশা যে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই বিচার কার্যটা শেষ হোক, আমরা সেটা করার ব্যবস্থা করছি। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে কিছু আইনানুগ ব্যবস্থা আছে, যেমন আসামিকে সাক্ষ্যগ্রহণের পরে পড়ে শোনাতে হয়, সেই সব বিষয় আছে। তারপরে আর্গুমেন্টের জন্য দিন রাখতে হয়। আর্গুমেন্টের পরে রায়ের জন্য দিন ধার্য হবে—এটা আদালতের বিষয়। আশা করছি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যটা শেষ হবে। রায় কি হবে, কখন হবে এগুলো আদালতের বিষয়।
রামিসা হত্যাকাণ্ডে ‘ডলার’ নামের একজনের কথা বলা হচ্ছে। তদন্তে আপনারা এ বিষয়ে কিছু পেয়েছেন কি না? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না, আমার কাছে এই সব কোনো তথ্য নেই। বিচার তো চলছে, আসামি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করেছে, তারপরে চিকিৎসক সম্ভবত আজকে সাক্ষ্য দেবেন। পোস্টমর্টেম অথবা অন্যান্য ফরেনসিক রিপোর্টের বিষয়ে সাক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে আমি জানি না।
মূল আসামি বলেছেন, তিনি ধর্ষণকারী, কিন্তু রামিসার হত্যাকারী আরেকজন—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আদালতে বলেছে কি না আমি জানি না। আর আদালত সম্ভবত একটা নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আদালতের কোনো অফিসার যেন বাইরের কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলেন।
এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমের ক্ষেত্রে যদি বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলি, খুব বেশি বলা হবে না। এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের এখানে কাজে লাগিয়েছি। আশা করি আমরা একেবারে নিজস্বভাবে এই প্রযুক্তিটা ব্যবহার করে সফলতা পাবো। এক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের জনবল প্রশিক্ষিত আছে। আমরা এখন ট্রায়াল অ্যান্ড এরর বেসিসে এই ট্রাফিক সিস্টেমের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। আশা করি আগামী ১-২ মাসের মধ্যে অন্তত ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিস্টেমে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবো।
ঢাকার বাইরে নতুন এ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হবে কি না—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে ঢাকায় কতটা সফলভাবে কি করতে পারি—এক্সপেরিমেন্টটা করে অবশ্যই অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে, মেট্রো এরিয়ায় ব্যবস্থা নেব।
সিটি করপোরেশনের পরিবর্তে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিজস্ব জনবল দিয়ে করার চেষ্টা করবেন কি না? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা সিটি করপোরেশনের একক কোনো বিষয় নয়। এটা ঢাকা মেট্রোরেলের একক কোনো বিষয় নয়। এখানে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা অবশ্যই লাগে। তারপরে আমরা সিটি করপোরেশনের যেহেতু মেজর অংশ, সিটি করপোরেশনকে আমরা এখানে একজন মেজর প্লেয়ার হিসেবে যুক্ত করেছি। তারপরে জনসচেতনতার জন্য আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হয়। আমরা একটা যান্ত্রিক পদ্ধতি শুরু করলাম সেটার ব্যবহার সম্পর্কে জনগণকে যদি আগে থেকে সচেতন না করি, অবহিত না করি তাহলে এটা প্রয়োগের ফল লাভ হয় না।
যে রাস্তায় এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা, সেই রাস্তায় আবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলছে। এটা দ্বান্দ্বিক অবস্থার সৃষ্টি করে কি না—এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবশ্যই করে। আপনারা সবাই জানেন আমাদের দেশে ওভারনাইট হাজার হাজার এরকম টমটম বা অটোরিকশা রাস্তায় নেমে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা একটু চেষ্টা করেছিল। হাজার হাজার লোকজন যেহেতু, আমাদের এখানে বেকার সমস্যা বেশি, তারা কর্মসংস্থানের দোহাই দিয়ে কিছুটা রিলিজ করতে চেষ্টা করেছে। আমরাও সেটা অ্যাড্রেস করেছি।
তিনি বলেন, এখন তাদের অন্যভাবে রিহ্যাবিলিটেট না করে, পুনর্বাসন না করে, যদি আমরা হাজার হাজার লোককে ওভারনাইট বেকার করে দেই, এটাও একটা সমস্যার সৃষ্টি করবে। সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি তাদের যাতে শহরের বাইরে অন্যভাবে প্রোভাইড করা যায়, বেকারত্বও সৃষ্টি না হয় আর আমাদের ট্রাফিকের জন্যও কোনো সমস্যা না হয়।
জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে পরিকল্পনা গোপন রাখলেন মন্ত্রী
জঙ্গল সলিমপুরে কোনো বিশেষ অভিযানের ঘোষণা, নির্দেশনা দেবেন কি না? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনাটা এখনো ফাঁস করতে চাচ্ছি না। কারণ এগুলো তথ্য ফাঁস হলে পরে আমাদের এই সব রেসকিউ অভিযান একটু অসুবিধা হয় এবং অপারেশনে অসুবিধা হয়। জঙ্গল সলিমপুরে যারা অধিবাসী আছে, তারা যে কোনো কারণেই হোক সরকারি খাস জায়গায় বসতি স্থাপন করেছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা বলেছি, তাদের উচ্ছেদ করবো না। যদি কখনো প্রয়োজন হয় সেই জায়গায় সরকারি স্থাপনা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যায়, তখন প্রয়োজন অনুসারে, সে ক্ষেত্রমতে রিহ্যাবিলিটেট করা হবে, পুনর্বাসন করা হবে, সেটা আমরা ঘোষণা দিয়ে এসেছি। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করবো না।
তিনি বলেন, তবে ওখানে সন্ত্রাসীদের কোনো আস্তানা আমরা রাখবো না। এটা নির্মূল করা হবে। সেজন্য একটু সময়ের দরকার, আমাদের কিছু কৌশল আছে, সেগুলো সব এখানে বলা ঠিক হবে না।
শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অনেকেই জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী বলতে কিছু নেই। যদি অভিযুক্ত এবং অপরাধী হয়, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করবো আইনানুগভাবে। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার তো আদালতের। আদালত আদালতের কাজ করেছেন, আমরা আমাদের কাজ করবো।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।