
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত সাজিদ জুট মিলস্-এ সংঘটিত বহুল আলোচিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্রীরামগাড়ী গ্রামের সাজিদ জুট মিলস্-এ প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রতিষ্ঠানের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের মারধর করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে।
এরপর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে মিলের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ, তামার তারসহ প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা এ সময় ধারালো ছুরি, চাপাতি, লোহার রড ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুণ্ঠিত মালামাল সরিয়ে নেয়।
ঘটনার পর জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পেনাল কোডের ৩৯৫ ধারায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্তে নামে নাটোর জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হক-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতেখায়ের আলম-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি নাটোরের একটি বিশেষ টিম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পাবনা সদর থানার বড় বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার এবং ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)। তাদের সবার বাড়ি পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাত দলের পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর এত বড় একটি ডাকাতির ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।