
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শিবগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ইয়াবা পাচারের সময় আব্দুল হামিদ (৩৮) ও মোছা. মৌ (১৮) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে ঢাকা রংপুর মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার ভরিয়া পাকুরতলা এলাকায় এসএস ফুড জোনের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আব্দুল হামিদ দিনাজপুরের কোতয়ালী থানার জীবনপুর এলাকার মৃত নূর ইসলামের ছেলে। অপর আসামি মোছা. মৌ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন জেলখানা এলাকার মো. মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকের একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধাগামী শালকী সুপার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী কোচ থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। কোচটির F 3 ও F 4 আসনে বসা টিকিটবিহীন দুই যাত্রী নিজেদের স্বামী স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে আব্দুল হামিদের পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেটে থাকা খাঁকি রঙের খামের ভেতর থেকে নীল জিপারযুক্ত পাঁচটি পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা ছিল।
অন্যদিকে মোছা. মৌয়ের দেহ ও তার কাঁধে ঝোলানো ধূসর রঙের ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করে আরও পাঁচটি নীল জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুইজনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট সংখ্যা ২ হাজার পিস এবং ওজন ২০০ গ্রাম বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
অভিযানে ইয়াবার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি Itel Power70 ও একটি Oppo A18 মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি সিম এবং একটি ভ্যানিটি ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে যাত্রীবাহী বাস থেকে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দেওয়া দুইজনকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের চালানটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চালানের সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।