
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চাউলের বস্তার ভেতর লুকিয়ে বুপ্রেনরফাইনযুক্ত ৯২০ অ্যাম্পুল ইনজেকশন পাচারের সময় তালিকাভুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া ও র্যাব-১২ এর যৌথ দল।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেল পৌনে ছয়টা থেকে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সলঙ্গা থানার সাতটিকরি তালতলা এলাকায় নাটোর-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে হামিম হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার টারুটিয়া গ্রামের মো. শাহিদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি মৃত আমজাদ মোল্লার ছেলে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় রাজশাহী থেকে শাহজাদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে মাদকের চালান বহন করা হচ্ছে। পরে র্যাব-১২ এর সহযোগিতায় মঈন ট্রাভেলসের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬৩১০ নম্বরের বাসে অভিযান চালানো হয়। বাসের সি-২ নম্বর আসনে টিকিটবিহীন যাত্রী হিসেবে বসা শাহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেখানো মতে বাসের লকারে রাখা একটি সাদা সিনথেটিক বস্তা তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিতে চাউলের ভেতর খবরের কাগজে মোড়ানো দুটি প্যাকেট থেকে ‘কিউপিজেসিক’ লেবেলযুক্ত বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ৪৬০টি করে মোট ৯২০টি অ্যাম্পুল পাওয়া যায়। প্রতি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ১ হাজার ৮৬০ মিলিলিটার মাদকদ্রব্য ছিল। এছাড়া ১৫ কেজি চাউল ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি ভিভো ওয়াই-১১ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তার শাহিদুল ইসলাম এর আগেও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত ১৩ মে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪৩০ সিএফটি পাথরবোঝাই ট্রাক থেকে ১ হাজার ১২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছিল।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদক পাচারকারীরা এখন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। চাউলের বস্তার ভেতরে ইনজেকশন লুকিয়ে পাচারের ঘটনাটি তাদের নতুন অপকৌশলেরই প্রমাণ। ডিএনসি ও র্যাবের সমন্বিত অভিযানে এ চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকাসক্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।