
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়ায় সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ও উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের মুন্নাফ প্রামানিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম মনিরকে ছুরিকাঘাতে(২১)হত্যায় জড়িত আসামিদের ফাঁসি,ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসীর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও থানার সামনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মানব বন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জানা গেছে,গত ৮জুন বিকেলে পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাষ্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও নিহত মনিরের গ্রামের(শিবরামপুর)প্রতিবেশি নূর আলমের ছেলে রাকিব হোসেনের (২৪) মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে রাকিব মনিরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। মনিরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।মনিরকে ছুরিকাঘাতের পর রাকিব ঘটনাস্থলের পাশে একটি পুকুরে কচুরি পানার মধ্যে আত্মগোপন করে। থানা পুলিশ খবর পেয়ে সেখান থেকে রাকিবকে আটক করে। স্থানীয়রা জানান, রাকিব এবং মনির দুজন বন্ধু।ছোটবেলা থেকে একই সাথে একই গ্রামে বেড়ে উঠেছে দুজন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন,নিহত মনিরের বাবা মুন্নাফ প্রামানিক,মা নছিফা খাতুন,ছোট ভাই তানজিল হোসেন,মনিরের বন্ধু সালমান বিশ্বাস ও চাচা এরশাদ আলী প্রামানিক প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিহত মনির হোসেন এলাকার একজন শান্ত ও ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এই মেধাবী ছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।রাকিব হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হলেও,বক্তাদের দাবি রাকিবের একার পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল না।
এর পেছনে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন তাঁরা। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)রফিকুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা বাস টার্মিনালে এবং মামলা হয়েছে পাবনা থানায়। তবে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ও সুষ্ঠু বিচারে সাঁথিয়া থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।