
নিউজ ডেস্ক: দেশের আরও ১২টি জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন জেলাগুলোতে এ ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে তিন দফায় ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু আছে। এর সফলতায় ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়ে আজ আরও ১২টি জেলায় একযোগে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো। এর মধ্য দিয়ে দেশে ই-বেলবন্ড কার্যক্রম চালু হওয়া জেলার সংখ্যা হলো ২৮টি। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হবে।
প্রচলিত বেইলবন্ড পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমেছে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে ই-বেইলবন্ড আমরা চালু করেছিলাম। এরপর নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর বগুড়াসহ সাতটি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালুর মধ্য দিয়ে এই সরকারের বিচার বিভাগ সম্পর্কে যে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া—সেই প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল।
তিনি বলেন, আজকে আমরা দেখছি ১৬টি জেলায় ই-বেলবন্ড চালু হওয়ার পর, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে… প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপে… এক লাখ ২০ হাজারের মতো বেইলবন্ড জমা হয়েছে ই-বেলবন্ডের মাধ্যমে, খুবই স্মুথলি। আগে যেখানে একটি বেইলবন্ড চালু করতে ১২টি ধাপ ব্যবহার করা হতো, সেখানে এক ক্লিকে আইনজীবী তার চেম্বারে বসে বা যে কোনো জায়গায় বসে, গাড়িতে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার করে বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। বেইলবন্ড জমা দেওয়ার পর সেটা যে ওখানে রিসিভ হয়েছে, সেটার একটা ওটিপি আসবে সঙ্গে সঙ্গে।
‘এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। অনেকেই বলেন, ১৬ বছর জেল খাটলাম। আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের লোকজন কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা জজ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে যে হয়রানির শিকার হয়েছে, আপনি আসার সঙ্গে সঙ্গে সব হয়রানি বন্ধ করে দিলেন? এটা কেমন বাংলাদেশ?’
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা তখন বলেছি, এটাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতি। আমরা হয়রানি করতে চাই না, আমরা চাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। তারই অংশ হিসেবে আগে ১৬টির সঙ্গে এই ই-বেইলবন্ড কর্মসূচিতে আরও ১২টি জেলা সংযুক্ত হলো।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, যারা যে জেলাতে আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে কমাতে পারবেন, তাদের কীভাবে পুরস্কৃত করা যায় সেই চিন্তা-ভাবনার মধ্যে আমরা যাচ্ছি। আইন মন্ত্রণালয় থেকে সেরকম একটি পরিকল্পনা আমরা নেওয়ার চিন্তা করছি।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, চালু হওয়া ১৬ জেলায় ই-বেইলবন্ড দাখিল ও সে সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের কষ্ট লাঘবের বিষয়টি এরই মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আজকের এই চতুর্থ পর্যায়ের মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড সেবা আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে জামিননামা যাচাইকরণে সময়ক্ষেপণ কমবে, বন্দিদের অহেতুক কারাবাস লাঘব হবে এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও সুদৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংশ্লিষ্ট ১২টি জেলার বিচারক, আইনজীবী, জিপি-পিপি, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।