
বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চর এলাকায় গভীর রাতে গোলাগুলির ঘটনার পর নিখোঁজ স্বপন ব্যাপারীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে বাঘা থানায় এ মামলা করেন নিখোঁজ স্বপনের বাবা সিদ্দিক ব্যাপারী। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিখোঁজ স্বপন ব্যাপারী কালিদাসখালি চরের বাসিন্দা সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে। আর গুলিবিদ্ধ জিয়াউল হক নিচপলাশী চরের শুকুর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি কালিদাসখালি চরে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন স্বপন ব্যাপারী। তার ব্যবহৃত টর্চলাইটের আলো নৌকায় থাকা লোকজনের ওপর পড়লে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বপনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। বুধবার (২০ মে) সকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী সিদ্দিক ব্যাপারী জানান, গভীর রাতে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল নৌকায় করে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে বাইরে বের হলে তিনি দেখতে পান, বাড়ির সামনে তার ছেলে স্বপনকে ঘিরে ফেলে ওই ব্যক্তিরা। গালাগালির একপর্যায়ে তাকে গুলি করে নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত ছেলেকে উদ্ধারের দাবি জানান।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মার চর এলাকায় বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের তৎপরতা দেখা যায়। ঘটনার পুরো বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্বপন ব্যাপারী ও জিয়াউল হক নামে দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়াউল চিকিৎসা নিয়েছেন, কিন্তু স্বপনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়। নিখোঁজ স্বপনকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।