
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার মদদে মারপিট ও প্রতিপক্ষের জমিতে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মৃত মমেজ উদ্দীনের ছেলে মো. মোজাফ্ফর হোসেন।
তিনি বলেন, তিনি গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। তারা দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর যাবত জয়পুর মৌজায় আর এস খতিয়ানের ১৩২৪ হাল দাগের ৩.৬৪ একর কাতে ১.৯৮ একর জমিতে চাষাবাদ করে ভোগদখল আসছেন। চলতি মৌসুমে উক্ত জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করার পর গত ১ আগষ্ট শনিবার বেলা ১১ টার দিকে দেবীপুর গ্রামের আব্দুলের ছেলে মো. আমিনুল (৩০), তার ভাই মো. শহিদুল (৪০), জয়পুর গ্রামের মৃত আঃ সোবহানের ছেলে মো. সাদেকুল ইসলাম (৪০), জয়পুর সরদারপাড়া গ্রামের মৃত হাকিমের ছেলে মো. মোজাহার (৪৫), মৃত সাদেক আলীর ছেলে আলতাব হোসেন (৩৪), শাহাজানের ছেলে মো. হারুন (৩২), জয়পুর টিয়াপাড়ার মোজাহারের ছেলে মোকাদ্দেস (৩০), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. দেলুয়ার হোসেন (৪৫), মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে ময়নুর (৪২), মৃত তবিজ উদ্দীনের ছেলে আনোয়ার (৫০), গুপিনাথপুর গ্রামের ইউসুবের ছেলে মো. চঞ্চল (৪০) ও তার ভাই মো. তোতা (৩৫), পত্নীতলা উপজেলার হরিরামপুর প্রফেসর পাড়ার মৃত তবিজ উদ্দীনের জামাই মো. মনিরুজ্জামান (৩৬) ও শাশইল গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ছেলে স্বপন বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে উক্ত জমিতে রোপণকৃত রোপা আমন ধানের খেতের চারা উপড়িয়ে ও পাওয়ার টিলার দিয়ে হালচাষ করে সমস্ত ধানের চারা বিনষ্ট করে ক্ষতি সাধন করে সেখানে কয়েকটি আম গাছের চারা রোপণ করে। চলতি মৌসুমে ওই জমি থেকে যে পরিমাণ ধান ও খড় পাওয়ার সম্ভবনা ছিল তার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হতো বলে তিনি দাবী করেন।
তিনি আরও জানান বিবাদীগণ গত ১৮ জুলাই সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ নালিশী সম্পত্তিতে এসে তাদেরকে এলোপাথারী মারপিট করে। তাদের মারপিটে মোজাফ্ফর রহমান, আব্দুল মজিদ, মো. মনসুর আলী, আনিসুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতরা উপজেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। উপরোক্ত ঘটনাগুলোতে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে খাজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম (বাদল) ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে মামলা না নিতে বাধ্য করে। তার অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে ওই বিএনপি নেতা আওয়ামী দোসরদের সহযোগিতা করতে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে ফসল বিনষ্ট, মারপিট ও জমি দখলের চেষ্টায় সহযোগিতা করছেন। পরে তারা গত ৪ আগষ্ট ফসল বিনষ্টের অভিযোগে এবং ২২ জুলাই মারপিটের অভিযোগে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এ সকল ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই আঃ সালাম, দুই বোন মোছা. রেহেনা ও মোছা. মোমেনা এবং আঃ সালামের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম। এ ব্যাপারে জানতে খাজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাদলের মুঠোফোনে ( 017119310.. ) একাধিকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।