
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী ভিকু ড্রাইভারের ছুরিকাঘাতে ৪২ বছর বয়সি এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নারীর নাম তহমিনা (রেবা)। স্বামী শফিকুর ইসলাম ধুরইল গ্রাম, ধামুইরহাটে বাড়ি।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার পারআধাইপুর গ্রামের বুড়াকালি মন্ডপের পাশে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, মন্ডপের পাশে পুকুর পাড়ে ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘর রয়েছে। ঘরের দরজার ভিতর রক্ত পড়ে আছে। সেই ঘরে ভিকু ড্রাইভারেরা থাকে। এই ঘরের পাশেই বসবাস করে রঞ্জিত চন্দ্র। তিনি জানান, রাত প্রায় ১০টা। এমন সময় বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এর মাঝে কান্নার আওয়াজ আসে ঘরে। আমাকে বাঁচাও, আমাকে একটু পানি দাও, ভিকুওআলা আমাকে মারে ফেললো। আমার দুয়ারে এসে সাহায্য চাইছে, আমি দরজা খুলতে পারছি না। আশে পাশে কেউ নেই। মেয়েটির হাতে চাকু। কিছুক্ষণ পর ৩ জন পথচারী আসে, তখন আমি দরজা খুলে বের হয়ে নারীর সেবা করি। নারীর গলা কাটা এবং পেটে ছুরি মারা হয়েছে। কোন ভ্যানগাড়িও নেই। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর আমার শরীকের লোকজন জানতে পেরে ছুটে আসে, তখন ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বদলগাছী পরে নওগাঁ হাসপাতালে রেফার্ড করে। নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীটির সঙ্গে ছিলাম। ভোরে বাড়ি এসেছি। চিকিৎসা অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় ওই নারী। ঘটনাস্থলে একটি ভিকু রয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানায় খান ইটভাটার মালিকের ভিকু। মালিক দেশের বাহিরে থাকায় ম্যানেজার খোরশেদ আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, ওই ভিকু চালায় সৌখিন নামে এক ড্রাইভার। সে ৬ তারিখে ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে।
তার স্বামী শফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, আমি একজন কাঠ মিস্ত্রি। বুধবার সকালে কাজে গিয়েছি। সকাল ১০টার দিকে আমার স্ত্রী ফোনে বলে পাসপোর্ট অফিসে যাবে। ওই দিন বিকালে ফোন করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় আমি বিষয়টি জানতে পারি। পরে জানলাম সৌখিন এ ঘটনার সাথে জড়িত।
থানা অফিসার ইনচার্জ মো, রুহুল আমিন বলেন, এ বিষয়ে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। রহস্য উদঘাটনসহ আসামী গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।