
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় যাত্রীবাহী শ্যামলী পরিবহনের এক হেলপারের স্কুলব্যাগ থেকে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় জিম বাবু (২২) নামে ওই বাসের হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার নওদাপাড়ায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জিম বাবু রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম শামীম মিয়া এবং মায়ের নাম ঝুমা বেগম। তিনি কক্সবাজার থেকে দিনাজপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮১৪২ নম্বরের যাত্রীবাহী কোচের হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয় জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে দিনাজপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি কোচের হেলপার ইয়াবার চালান নিয়ে যাচ্ছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পরিদর্শক মো. সামসুল আলমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওদাপাড়ায় নির্ধারিত স্থানে কোচটি থামিয়ে ইঞ্জিনের কভারে বসে থাকা হেলপার জিম বাবুর স্কুলব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর স্কুলব্যাগের ভেতরে পুরোনো কাপড়ের মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত ১৩টি পলিপ্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ২ হাজার ৬০০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ছিল। ডিজিটাল কিচেন স্কেলে পরিমাপ করে এসব ইয়াবার মোট ওজন পাওয়া যায় ২৬০ গ্রাম। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে একটি সিমকার্ডসহ আইটেল আইটি৫৬২১ মডেলের বাটন ফোনও জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।