1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : admin : admin admin
  6. [email protected] : nahid islam : nahid islam
  7. [email protected] : R khan : R khan
তেল দূষণ ও জাহাজডুবির ক্ষতিপূরণে নতুন পথ - খবর ২৪ ঘণ্টা
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

তেল দূষণ ও জাহাজডুবির ক্ষতিপূরণে নতুন পথ

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক তেল দূষণ, বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া এবং জাহাজডুবির ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। পরিবেশ সুরক্ষা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগ দিয়েছে দেশ।

সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইএমও মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে কনভেনশনগুলোতে বাংলাদেশের যোগদানের দলিল হস্তান্তর করা হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের পক্ষে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন। এসময় যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ যে তিনটি কনভেনশনে যোগ দিয়েছে সেগুলো হলো— তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দেওয়ানি দায়বদ্ধতাবিষয়ক ১৯৯২ প্রটোকল বা সিএলসি প্রটোকল, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন-২০০১ এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন-২০০৭।

কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, বাংলাদেশের জলসীমা দিয়ে প্রতিদিন শত শত জাহাজ চলাচল করে এবং দেশের বিভিন্ন বন্দরে নৌযান আসা-যাওয়া করে। ফলে তেল নিঃসরণ, জাহাজের বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া কিংবা দুর্ঘটনায় জাহাজডুবির মতো ঝুঁকি থাকে। এসব ঘটনায় নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নতুন কনভেনশনগুলোতে যুক্ত হওয়ার ফলে এই ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক বীমা এবং ক্ষতিপূরণের আর্থিক কাঠামো নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার। অর্থাৎ দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নির্ধারিত কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ মিলবে।

বিশেষ করে জাহাজডুবির পর নৌপথে বিপজ্জনক বা বাধাসৃষ্টিকারী রেক অপসারণের দায় নির্ধারণে নাইরোবি কনভেনশন ভূমিকা রাখবে। অপরদিকে জাহাজ থেকে তেল বা বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিপূরণ এবং দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সিএলসি প্রটোকল ও বাঙ্কার কনভেনশন কার্যকর আন্তর্জাতিক ভিত্তি দেবে।

এসব কনভেনশনে যোগদানের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে কনভেনশন-সংশ্লিষ্ট সনদ সংগ্রহে বিদেশি নৌ প্রশাসনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে এটি। এতে সময় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়লে বিদেশি বন্দরে অতিরিক্ত পরিদর্শন, বাণিজ্যিক বিলম্ব ও নথিপত্রসংক্রান্ত জটিলতা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম এবং উপকূলকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাস্তবতায় এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে আরও দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খবর২৪ঘন্টা/মইসে

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

 
Developed By Khobor24ghonta Team