
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষক অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন। তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি। সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করা। নির্ধারিত সময়ে উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ফলে আবাদ সম্প্রসারিত হবে এবং লাভজনক চাষাবাদে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন। তিনি আরও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করে আসছে। সরকারি এ সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উফশী রোপা আমন চাষ সম্প্রসারণের জন্য উপজেলার ৪ হাজার ৫০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নতমানের ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া মরিচ (হাইব্রিড) চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬০ জন কৃষককে ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার, ৫ কেজি এমওপি সার, ১০০ গ্রাম সহায়ক কৃষি উপকরণ এবং ১০ গ্রাম ছত্রাকনাশক প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে খরিপ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি (উফশী ও হাইব্রিড) আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলার ২ হাজার ৫০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে সাত প্যাকেট সবজির বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি সার এবং ১৫ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭ হাজার ৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান উপস্থিত কৃষকদের হাতে প্রতীকীভাবে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেন। পরে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে এসব প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও সার পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং চলতি মৌসুমে অধিক ফলন অর্জনে তারা উৎসাহিত হবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ কৃষিবান্ধব কর্মসূচি গোদাগাড়ীতে কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।