
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শাজাহানপুরে যাত্রীবাহী এসি স্লিপার বাসে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মো. বিপ্লব ইসলাম (৩৬) নামে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ঢাকা রংপুর মহাসড়কের নয়মাইল জামালপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোর ওজন ১ দশমিক ৬০ কেজি। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি কক্সবাজার থেকে দিনাজপুরগামী এভারগ্রীন ট্রাভেলসের একটি এসি স্লিপার বাসে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছিলেন। বাসটির নিবন্ধন নম্বর চট্ট মেট্রো-ব-১১-২১১৮। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়ের একটি দল শাজাহানপুর থানার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মো. ইউসুফের বাড়ির সামনে বাসটির গতিরোধ করে।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বাসের ইউএ-৪ নম্বর আসনে বসা বিপ্লব ইসলামকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁর দেখানো মতে, আসনের ওপরের বাম পাশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নক কভারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা কালো স্কচটেপে মোড়ানো দুটি পোটলা উদ্ধার করা হয়।
পোটলা দুটির মধ্যে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকে মোট ৫৩টি প্যাকেট ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে ইয়াবা পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি পোটলায় ২৫টি প্যাকেটে ৫ হাজার পিস এবং অপর পোটলায় ২৮টি প্যাকেটে ৫ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ১০ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমসহ ভিভো ওয়াই২১ মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে আসছিল। তাদের কার্যক্রম ও গতিবিধি বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিতে রাখে অধিদপ্তর। সর্বশেষ কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বগুড়ায় পৌঁছানোর তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিল্লুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক সরবরাহকারী চক্রের অন্য সদস্য ও হোতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই করে অধিকতর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তার বিপ্লব ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।