1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : admin : admin admin
  6. [email protected] : nahid islam : nahid islam
  7. [email protected] : R khan : R khan
নওগাঁয় অগ্রিম বরাদ্দের সার, খোলাবাজারে সরবরাহ বেড়েছে, স্বস্তিতে কৃষক - খবর ২৪ ঘণ্টা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

নওগাঁয় অগ্রিম বরাদ্দের সার, খোলাবাজারে সরবরাহ বেড়েছে, স্বস্তিতে কৃষক

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধি: চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের সার আগেই ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ। এতে ডিলার পর্যায়ে সারের সরবরাহ বেড়েছে এবং বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন কৃষকরা। ফলে সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কেটেছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আমন মৌসুমে নওগাঁয় যাতে সারের কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বেশি দামে সার বিক্রি, অবৈধ মজুত কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে ধানের গাছ মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এ সময়ে ধানের জমিতে ইউরিয়া সারের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

জুলাই মাসে নওগাঁয় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ২৮৯ মেট্রিক টন, এমওপি ৩ হাজার ৪১ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৩ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন।

আগস্ট মাসে ইউরিয়া ৯ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন, এমওপি ২ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ২ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ইউরিয়া ৬ হাজার ৩৬৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭৬৬ মেট্রিক টন, এমওপি ১ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ২ হাজার ৩১২ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের সার ইতোমধ্যে জেলার ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে বাজারে সরবরাহ শুরু করেছেন।

বর্তমানে খোলাবাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়ার পরিবর্তে জমির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সার প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের মতে, বর্তমানে অনেক কৃষক জৈব সারের পরিবর্তে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি রাসায়নিক সার পরিমিত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলার সিংগারপাড়া এলাকার কৃষক মোস্তাক হোসেন বলেন, বর্তমানে ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে। স্লিপের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার কিনতে পারছেন তারা। তবে সার নিয়ে গুজবের কারণে অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার বাড়িতে মজুত করছেন। এতে বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পুকুরেও সার ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু পুকুরে ব্যবহারের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় কৃষিজমির জন্য বরাদ্দ করা সারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পুকুরে ব্যবহৃত সারের জন্য পৃথক বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হলে কৃষিজমির সারের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

সদর উপজেলার চকউজির গ্রামের কৃষক এবাদুল প্রামাণিক বলেন, অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের পরিবর্তে কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শে জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে বেশি সার প্রয়োগকে বেশি ফলনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রবণতাও রয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি জমির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত টিএসপি ব্যবহারের কারণে অনেক জমিতে ফসফরাসের পরিমাণ বেড়ে গেছে। অথচ মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষকরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে সার প্রয়োগ করছেন। এ ধরনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সার ও কীটনাশক ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

বদলগাছি উপজেলার কোলা ভান্ডারপুর এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ডিলারদের দোকান থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে। তবে যারা সার নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার মজুত করছেন, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাবেন এবং সারের ব্যবহারেও শৃঙ্খলা আসবে।

রাণীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত সারের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ফলে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। কৃষকদের যাতে কোনো ব্যবসায়ী ঠকাতে না পারেন, সে বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকেও সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার শাহ বলেন, কোনো পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহের ওপর চাপ পড়ে। কৃষকরা ভবিষ্যতের আশঙ্কায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার বাড়িতে মজুত করলেও বাজারে কৃত্রিম সংকটের ধারণা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কখনও কখনও ডিপো থেকে সার সরবরাহে সাময়িক বিলম্ব হলেও কৃষকদের মধ্যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার কেনা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে জমিতে সার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শশাঙ্ক কুমার বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কৃষকদের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ হিসাব করা হচ্ছে। এরপর স্লিপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও গুজবে কান দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার মজুতের চেষ্টা করছেন। জমিতে বেশি সার দিলেই বেশি ফলন হবে এমন ধারণা থেকে কৃষকদের বের করে আনতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কৃষকদের কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা নিয়মিত কাজ করছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. মনজুর হোসেন বলেন, জেলার চাহিদা অনুযায়ী সারের চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠানো হয়। চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রতি মাসের চাহিদার ভিত্তিতেই বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নওগাঁয় সারের সংকট যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ আগেই নিয়ে এসে ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার রয়েছে।

সারের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। অতীতে কৃষকরা গৃহপালিত পশুর গোবর থেকে তৈরি জৈব সার বেশি ব্যবহার করতেন। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকত এবং পরিবেশের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ত না।

তিনি কৃষকদের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ভর্তুকিতে সরবরাহ করা সার ব্যবহারের অনুরোধ করেন তিনি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে সারের বাজার কঠোরভাবে মনিটরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সার নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সারের বাজার নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য জেলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

খবর২৪ঘন্টা/মইসে

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

 
Developed By Khobor24ghonta Team