
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম হোসাইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) বিদ্যালয়ে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেরিতে উপস্থিত হন এবং ছুটির নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এছাড়া সরকার নির্ধারিত জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন না করা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগও করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, আপ্যায়ন ও পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ করা বাৎসরিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে দম্ভোক্তি করেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরে থেকে কয়েকজনকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি না থাকলেও তিন ও চার বছর বয়সী শিক্ষার্থী ভর্তি করে তাঁদের অভিভাবকদের অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিভাবক সদস্য পদের ফরম বিক্রির শেষ তারিখ ছিল ১৬ জুন এবং ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৭ জুন ২০২৬। কিন্তু কোনো লিখিত বা মৌখিক নোটিশ ছাড়াই ২৫ জুন আরও চারটি ফরম বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নির্বাচিত একজন পুরুষ অভিভাবক সদস্য ও একজন পুরুষ বিদ্যোৎসাহী সদস্য মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফলে তাঁদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বদলি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম হোসাইনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বিদ্যালয়ে তদন্ত শেষে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম হোসাইনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মালেক নামের একজন প্রভাষক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে চান এবং তাঁর পছন্দ অনুযায়ী পুরো কমিটি গঠন করতে চান। তিনি এতে সম্মতি না দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মালেক তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।