
নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যারা মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বুধবার (১০ জুন) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন রিট মামলা, চাকরিসংক্রান্ত মামলা, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল মামলা এবং আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির জন্য এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সম্পদ বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার ও মন্ত্রণালয় এসব সম্পদ পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ জনগণের সম্পদ। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেহাত হওয়া সব সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।’
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা প্রণয়নের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলো তথ্যনির্ভর ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অযোগ্য ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন অথচ তালিকাভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আরও সুদৃঢ় হবে।’
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন কারণে সরকারি মামলাগুলোতে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের দক্ষ আইন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এই কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সলিসিটর উইং এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে বিদ্যমান আইনি জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হবে।’
কর্মশালায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সলিসিটর, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা অংশ নেন।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।