
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা ও মহানগরজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিবন্ধিত ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে প্রতিদিন মাত্র ৮ থেকে ১০টিতে তেল বিক্রি হচ্ছে, বাকিগুলো ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যত বন্ধ। ফলে যেসব পাম্পে সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নিতে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেকে রাত থেকেই লাইনে দাঁড়ালেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
জেলার অন্তত ১০টি পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ থাকতে দেখা গেছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পেরে অনেকেই শ্যালো মেশিন নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ছুটছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে খুলনা থেকে রাজশাহীর রেলওয়ে ডিপোতে জ্বালানি তেল আসা বন্ধ রয়েছে। আগে ওয়াগনে করে আসা তেল রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন ডিপো থেকেই সংগ্রহ করতেন পাম্প মালিকরা। বর্তমানে সেই সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাগমারার হাটগাঙ্গোপাড়ার মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুর বলেন, আগে রেলপথে তেল এনে কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হতো। এখন লরিতে করে দূরবর্তী ডিপো থেকে তেল আনতে গিয়ে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে আগের মতো সরবরাহ দিতে পারছে না, ফলে রেলপথে তেল পরিবহনও বন্ধ রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, বিপিসির সরবরাহ বন্ধ থাকায় খুলনা থেকে ট্রেনে তেল আনা যাচ্ছে না। তবে বিকল্প হিসেবে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর হয়ে তেল সরবরাহ শুরু হলে পুনরায় ওয়াগনে করে রাজশাহী অঞ্চলে তেল আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মমিনুল হক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পাম্প মালিকদের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ নেই। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকট কিছুটা লাঘব হবে এবং ভোগান্তি কমবে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।