
নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা মোটরসাইকেলে ১০ কেজি গাঁজা বহন করে বগুড়ায় পাচারের সময় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয় বগুড়া। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ধনুট উপজেলার শৌলমারী দক্ষিণপাড়া এলাকায় জনৈক সোহেল রানার বাড়ির সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ সাফল্য অর্জন করে ডিএনসি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গেন্দুকুড়ি এলাকার মো. নূর নবী খন্দকার জিকু (৪০) এবং গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ এলাকার মো. মিলন মিয়া (২৪)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে একটি বড় মাদকের চালান মোটরসাইকেলে করে বগুড়ায় আনা হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে ধুনট উপজেলার শৌলমারী দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে একজনের ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৫ কেজি এবং অপরজনের বহন করা সিনথেটিক বস্তা থেকে আরও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পাচারে ব্যবহৃত দুটি বাজাজ পালসার-১৫০ মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তারা নিয়মিত সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করতেন। এই মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদক পাচারকারীরা কৌশল পরিবর্তন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের কারণে তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্তভিত্তিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসি বগুড়া সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক কারবারি, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ধুনট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।