
নিজস্ব প্রতিবেদক: বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর, টেকসই ও আধুনিক করতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ২(দুই) দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজশাহী বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বিএমডিএ’র গবেষণা ও প্রশিক্ষণ শাখার আয়োজনে এবং সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, ঢাকার সার্বিক সহযোগিতায় ৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের উদ্ভোধন করেন প্রধান অতিথি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-২) মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।
অনুষ্ঠানে কোর্স পরিচালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. জিন্নুরাইন খান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ শাখা বিএমডিএ। এসময় উপস্থিত ছিলেন. মো. আব্দুল লতিফ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বিএমডিএ’র সচিব মো. মেহেদী হাসান, মো. তোফাজ্জল আলী সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী, এ,এস.এম দেলোয়ার হোসেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সেচ ব্যবস্থার দক্ষ পরিচালনা, যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন সেচব্যবস্থার স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও যান্ত্রিক ত্রুটি কমানো সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশেই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই সেচযন্ত্র ও সংশিষ্ট অবকাঠামোর সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা আনতে হবে। সেচযন্ত্রে ছোটখাটো ত্রুটি সময়মতো শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে বড় ধরনের ক্ষতি এবং অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব। মাঠপর্যায়ে কৃষক যেন নিরবচ্ছিন্ন ও সময়মতো সেচ সুবিধা পান, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিএমডিএ’র সেচ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে বিদ্যুৎচালিত বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট ও টুলসের পরিচিতি ও ব্যবহার, সাবমার্সিবল পাম্পের প্যানেল বোর্ড, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, সার্কিট ডায়াগ্রাম, স্টার-ডেল্টা কানেকশন, বৈদ্যুৎতিক লাইনে ব্যবহৃত মালামাল, এসি/ডিসি কারেন্ট, ভোল্টেজ, রেজিস্ট্যান্স, ক্যাপাসিটর ও বৈদ্যুৎতিক নিরাপত্তা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ, কার্যাবলি, ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সহ সেচযন্ত্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কোর্স সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. কাজী আশেকুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ শাখা বিএমডিএ। খান জাফরুল মেহেদী মাহমুদ উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মো. হাবিবুর রহমান মেকানিক, মো. আপেল মাহমুদ সহকারী মেকানিক, মো. শাহ জামান কার্য-সহকারী, মো. শহিদুল ইসলাম সহকারী মেকানিক, মো. জহিরুল ইসলাম মেকানিক সহকারী(অনিয়মিত)সহ রাজশাহী, গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, চাটমোহর ও পাবনাসহ বিভিন্ন জোন ও রিজিয়নএর মোট ৩০ জন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএমডিএ’র সংশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।