
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্যানিটারি ন্যাপকিনের বক্সের আড়ালে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ১৫০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাচারের সময় এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয় বগুড়া।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জগন্নাথপাড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পূর্ব পাশে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন শেরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপাড়া এলাকার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. আশিক ইকবাল ওরফে সাজু (৩৩)।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ওই এলাকায় একটি মাদকের চালান পাচার করা হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সেখানে অবস্থান নেয় অভিযানে অংশ নেওয়া দল। পরে সন্দেহভাজন আশিক ইকবালকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছে থাকা একটি খাকি রঙের কার্টনের ভেতরে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বক্সের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ১৫০টি ব্লিস্টার পাতা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ব্লিস্টারে ১০টি করে মোট ১ হাজার ৫০০ পিস ‘Tapal’ ব্র্যান্ডের টাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ব্লিস্টারসহ উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটগুলোর মোট ওজন ৬৩০ গ্রাম।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি স্যামসাং ডুয়োস বাটন মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়।
বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলার উপপরিচালক মোহা: জিললুর রহমান বলেন, “মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় তাদের এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। স্যানিটারি ন্যাপকিনের বক্সের আড়ালে টাপেন্টাডলের এই চালান পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উদ্ধার হওয়া মাদকের চালানটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অভিযান আগামীতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শেরপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।