
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে প্রায় ৮ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিদ্দিকপুর মাঠে।
উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের মো. মোকবুল হোসেনের ছেলে ভুক্তভোগী মো. মোতাহার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিদ্দিকপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ২০৫, হাল খতিয়ান নম্বর ১১৭ সাবেক দাগ নম্বর ৬৯০, ৬৯৪, ৭২২, ৭৩৯, হাল দাগ নম্বর ৯২৮, ৯৬০, ৯৬৭, ৯৯৭ মোট জমির পরিমাণ ৬.৭১ একরের মধ্যে ২.১৫ একরসহ উক্ত দাগে ৫ একর জমি কবলা মূলে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করে আসছেন। উক্ত জমি বিবাদীগণ জোরপূর্বক জবরদখলের চেষ্টা করলে গত ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর মোতাহার হোসেন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা (যার নম্বর ২৩৯/২০২৪ চি: নি:) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীগণ নালিশী সম্পত্তিতে বাদীর দখলে বাধা প্রদান, বেদখল, হস্তান্তর, দখল পরিবর্তন অথবা সম্পত্তির প্রকৃতি ও চরিত্র পরিবর্তন করা হতে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী মোতাহার হোসেনের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদীগণ ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক জমির ধান কাটতে যায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি বাদী হয়ে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ গ্রামের মৃত নিমাই সরকারের ছেলে শ্রী বিমান সরকার (৫৫), চেরাগপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর কালাপাড়া গ্রামের মৃত জসি উদ্দীনের ছেলে মো. আবেদ আলী (৫৫), উত্তরগ্রাম স্কুল পাড়ার মৃত মফে সরদারের ছেলে মো. কাশেম আলী (৬০) এবং শিবরামপুর গ্রামের মৃত ফরহাদ মালের ছেলে মো. সাইফুল ইসলামের (৫৫) নাম উল্লেখ করে মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (যার নম্বর ৫৪৪) করেন। সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে শ্রী বিমান সরকার ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে ওই জমির ধান দেখানোর জন্য যায়। এ সময় সেখানে মোতাহার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হলে বিবাদী বিমান সরকার মোতাহার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ওই জমির ধান কাটতে গেলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরই জের ধরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাতে বিবাদীগণ প্রায় ৮ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন মোতাহার হোসেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোতাহার হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন সকালে গিয়ে দেখেন জমিতে কোন ধান নেই সব ধান কেটে নিয়ে গেছে। এতে তার এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য যে, থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে বিমান সরকারের নাম থাকলেও ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাদী কর্তৃক ৯জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে করা মামলায় তার নাম নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রী বিমান সরকার বলেন, তার পিতা মৃত সুদর্শন সরকার (নিমাই)-এর কাছ থেকে উক্ত দাগে তিনি পৈতৃক সূত্রে ৭.২২ একরের মধ্যে ২.৪১ একর জমি পেয়েছেন এবং পারিবারিকভাবে দীর্ঘ ৯০-৯৫ বছর যাবৎ ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, ওই জমির বাকি দুই অংশ তার জ্যাঠা ও কাকার কাছ থেকে সুলতানপুর গ্রামের হাজি হযরত আলী নামে এক ব্যক্তি বিনিময় করে বিভিন্ন জনের নিকট হস্তান্তর করেন। বিমান সরকার বলেন, তিনি তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২.৪১ একর জমিতে বর্ষালী ইরি ধান রোপন করেছিলেন এবং তা পেকে যাওয়ায় কর্তন করেছেন। আদালত থেকে তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার এসআই মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, সাধারণ ডায়েরিটির তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।