
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ব্যবসার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের তিন প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গা মাজগ্রামের দুলাল প্রামাণিকের ছেলে মনসুর আলী (৩৪), আবু সামাদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (৪০) এবং হুমিস আলী মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লা (২৯)। তারা নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের মিয়াপুর মিনারপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অবিবাহিত হওয়ায় তিনি ব্যবসার টাকা সাধারণত নিজের কাছেই রাখতেন। বিষয়টি তার কয়েকজন প্রতিবেশী জানতেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আজিজের কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি ৯ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১১। ময়নাতদন্তে আজিজের গলায় কাটা দাগ এবং পিঠ ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন কৌশলে তদন্ত চালিয়ে প্রথমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সেলিম প্রামাণিক ও মনসুর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ও মনসুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে সাঁথিয়ার ডাঙ্গা মাজগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর আজিজের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আসামিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। গ্রেপ্তার সেলিম প্রামাণিকের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ও মনসুর প্রত্যেকে ৬ হাজার টাকা এবং আকাশ ৪ হাজার টাকা করে পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় রেজাউল করিম বাঘা নামে আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।