
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ সমাজসেবক ও সংগঠক মো. আব্দুল আলিম। পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা এই তরুণ ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পরিবর্তনের বার্তা, আধুনিক চিন্তা ও জনসেবার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় তিনি এখন কাটাখালীর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে কাটাখালী পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে নতুন মুখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তরুণ নেতা মো. আব্দুল আলিম। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহ, কৌতূহল ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন তাঁকে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হয়ে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান সময়ের দাবি। সেই জায়গা থেকেই মো. আব্দুল আলিম কাটাখালী পৌর রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। তাঁর প্রচারণায় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনসেবার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন আব্দুল আলিম। স্থানীয়দের মতে, তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, বিনয়ী আচরণ এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রবণতা তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি কাটাখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মিজানের মোড় এলাকার বাসিন্দা।
নির্বাচনের আবহ যতই ঘনীভূত হচ্ছে, ততই কাটাখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে আব্দুল আলিমকে ঘিরে আলোচনা। তাঁর প্রচারণা, উন্নয়ন ভাবনা এবং জনমুখী প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যেই মানুষের দৃষ্টি কাড়তে শুরু করেছে। পরিবর্তনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি ছুটে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।
“নতুন ভাবনা, নতুন গতি— বদলে যাবে কাটাখালী” স্লোগানকে সামনে রেখে মো. আব্দুল আলিম একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর প্রচারণায় উঠে এসেছে নাগরিক সেবা, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের নানা পরিকল্পনা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি পৌরসভা শুধু রাস্তা বা ভবনের উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করাই একটি জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।
প্রচারপত্রে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাজশাহী মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন, “আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান। এই কাটাখালীর মাটিতেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই আমি দেখেছি সাধারণ মানুষের কষ্ট, নাগরিক দুর্ভোগ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা। বহু বছর ধরে মানুষ পরিবর্তনের অপেক্ষায় থেকেছে, কিন্তু বাস্তবতা খুব বেশি বদলায়নি। সেই জায়গা থেকেই আমি মনে করেছি, নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
আমি বিশ্বাস করি, পৌরসভা মানে শুধু রাস্তা নির্মাণ বা ভবন তৈরি নয়। একটি পৌরসভা হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, সম্মান, নাগরিক অধিকার ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জায়গা। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যার বাস্তব সমাধান করা। আমি এমন একটি কাটাখালী গড়তে চাই, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, উন্নত নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
আমি চাই পৌরসভার প্রতিটি কাজ জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকুক। পৌরসভার আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারে তাদের টাকার ব্যবহার কোথায় হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হবে, যাতে জনগণের মতামত ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা যায়।
আমার স্বপ্ন কাটাখালীকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পৌরসভায় রূপান্তর করা। জলাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নত রাস্তা ও পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে। যানজট নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমার অগ্রাধিকার।
আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই তরুণ সমাজকে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। আমাদের অনেক শিক্ষিত তরুণ বেকারত্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে। তাদের জন্য আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা দক্ষ হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমি চাই কাটাখালীর প্রতিটি মানুষ মনে করুক, এই পৌরসভা তাদের নিজের। এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না দলীয় বিভাজন। আমি দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত কাটাখালী গড়তে চাই।
আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না। আমি মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন ও সেবার রাজনীতি করতে চাই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতাই আমাকে সাহস জোগায়। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ চাইলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।”
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।