
নিউজ ডেস্ক: এক/এগারোর কথা বললে আমার এ অঞ্চলের (সরকারদলীয় এমপিদের) অনেকেই বিব্রতবোধ করবেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, সামনের লোকেরা (বিরোধী দল) বিব্রতবোধ করবে কি না জানি না। এক/এগারোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম আমি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সর্বপ্রথম। যখন সংস্কারের ট্যাবলেট বিক্রি করা শুরু করেছিল বিহারি আমিন (মেজর জেনারেল আমিন), যখন সংস্কারের ট্যাবলেট বিক্রি শুরু করেছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী। ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের বিরাজনীতিকরণ চক্রান্ত (যখন শুরু হয়)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এক/এগারোর সময়ে বিএনপির কিছু নেতার অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দলটির এ সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের অনেক বড় বড় নেতা ভয়ে, ভীত হয়ে দলে দলে একসঙ্গে খালেদা জিয়াকে পরিত্যাগ করলেন, তার ডাকে সাড়া দিলেন না। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও দেশবাসী সাড়া জোগালো খালেদা জিয়াকে। খালেদা জিয়াও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশত্যাগ করেননি। তিনি জেলে গেছেন।
এক/এগারোর সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জামায়াত বিবৃতি দেয়নি উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তখন তারা বলেছিল তারেক রহমান-খালেদা জিয়ার অপকর্মের দায় জামায়াত নেবে না। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীর মামলায় জামায়াত নেতারা গ্রেফতার হলে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছিলেন ও এক পর্যায়ে মুক্তিও চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তবে একাত্তরের কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াতকে ভুল স্বীকার করার জন্য অনুরোধ করেন গয়েশ্বর।
জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম একটা কথা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন— প্রতিবেশীদের (ভারত) সঙ্গে আমাদের (বিএনপি) কিছু চলছে কি না? প্রতিবেশীদের সঙ্গে আপনাদের (জামায়াত) সম্পর্ক তো ব্রিটিশ আমলের, আমাদের না। সুতারাং ৪৭ নিয়ে গর্ব করার কিছু আপনাদের নেই।
তিনি বলেন, সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে বন্ধুত্ব থাকবে। কিন্তু দাসত্ব থাকবে না। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো, কিন্তু স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না, সমমর্যাদার ভিত্তিতে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ, জনগণের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে (প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক) নয়।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।