নিজস্ব প্রতিবেদক : কনকনে ঠাণ্ডা ও হিমেল হাওয়ায় রাজশাহী মহানগর ও আশেপাশের জেলা-উপজেলার মানুষ জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন। গত ৪ দিন ধরে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তীব্র শীতে বেকায়দার মধ্যে পড়েছে ছিন্নমূল ও পথশিশুরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছে বয়ষ্ক ও শিশুরা। হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতালগুলোতে শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর ও সর্দ্বিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। আর বয়স্ক মানুষজন শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। আজ শনিবার সকাল থেকে দিনভবর সূর্যের দেখা না মেলাই শীতের তীব্রতা বেড়েছে আরো বেশি। কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ, রিক্সা ও ভ্যানচালকরা বিপাকের মধ্যে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ওই সময় প্রায় ৪/৫ দিন শীতের দাপট বেশি ছিল। ২ দিন পুরোদিন সূর্যও দেখতে পায়নি রাজশাহীর মানুষ। কয়েকদিন পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় রাজশাহীর তাপমাত্রা। চলতি মাসের ১১ জানুয়ারী পর্যন্ত রাজশাহীর আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ ছিল। কিন্ত হঠাৎ করেই গত ৩/৪ দিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। শনিবার পুরো দিনই সূর্য দেখা যায়নি। ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনেক এলাকায় কুয়াশায় ঢাকা ছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা কেটে গেলেও শীতের তীব্রতা কমেনি। হালকা হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়েছে। এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় কম মানুষকে বাইরে বের
হতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রার পরিমাণ আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, রাজশাহী মহানগরীর বস্তি ও গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত গরম পোশাক না থাকা মানুষকে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পথশিশুদের কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও সেই এক পোশাকে ঘুরতে দেখা গেছে। গত ৪ দিন ধরে প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তীব্রতা বাড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরে কাজের সন্ধানে বের হওয়া অনেক মানুষকে কাজ না পেয়ে খালি হাতে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। নাইমুল নামের এক দিনমজুর বলেন, শীত হোক আর বৃষ্টি হোক পরিবারের সদস্যদের মুখে দুই বেলা দুই মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য কাজ করতেই হয়। কিন্ত
বেশি শীতের দিন ও বৃষ্টির সময় কাজ মেলেনা। কাজ না পেলে কষ্টের সীমা থাকেনা। রহিদুল নামের এক রিক্সাচালক বলেন, শীত বেশি পড়লেও কিছু করার নাই। দুই পয়সা আয় করার জন্য কষ্ট হলেও বাইরে থাকতে হবে। ঘরে বসে থাকলে পেটতো আর চলবে না। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বস্তিতে থাকা ভিক্ষুক নারী বলেন, সামর্থ্যবানদের উচিত শীতের মধ্যে হতদরিদ্রদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা। বিভিন্ন দল ও সংস্থার পক্ষ থেকে গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায়
অপ্রতুল। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেড় ডিগ্রি তাপমাত্রার পরিমাণ বাড়লেও তীব্রতা বেশি ছিল। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, তাপমাত্রার পরিমাণ আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এস/আর