1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : অনলাইন ভার্সন : অনলাইন ভার্সন
  6. [email protected] : nahid islam : nahid islam
  7. [email protected] : R khan : R khan
রাজশাহী বিভাগে কোরবানির পশুর প্রাচুর্য, চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ১৯ লাখ - খবর ২৪ ঘণ্টা
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিভাগে কোরবানির পশুর প্রাচুর্য, চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ১৯ লাখ

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগজুড়ে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৯টি পশুর। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৯টি পশু।

বিভাগজুড়ে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৮৩টি ছোট-বড় খামারে গরু, ছাগল ও ভেড়া লালনপালন করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৩০২টি হাট।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় ২৬ হাজার ২৩৪টি খামারে এক লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল ও ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া রয়েছে। জেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার হলেও চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার।

নাটোর জেলায় ২০ হাজার ৩৭৪টি খামারে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০৫টি গরু, তিন লাখ ২০ হাজার ৩৭১টি ছাগল ও ৩৪ হাজার ৩৮টি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় মোট পশু রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার, যেখানে চাহিদা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১১টি।

নওগাঁ জেলায় ৩৮ হাজার ৯০৯টি খামারে মোট ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ২ লাখ ১১টি, ছাগল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৪০টি এবং ভেড়া ৮০ হাজার ১৩৯টি। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭টি পশুর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১৩ হাজার ৯৪২টি খামারে এক লাখ ১৭ হাজার ১০টি গরু, ৮৪ হাজার ৮০১টি ছাগল ও ১২ হাজার ৯২২টি ভেড়া রয়েছে। জেলায় মোট পশুর সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪টি হলেও চাহিদা মাত্র ১ লাখ ২১ হাজার ২০২টি।

পাবনা জেলায় ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে মোট ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬ হাজার ৪০৫টি গরু, ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল ও ৬২ হাজার ৩৮৫টি ভেড়া রয়েছে। চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি পশুর।

সিরাজগঞ্জ জেলায় ১৭ হাজার ৬৮টি খামারে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি পশু রয়েছে। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি, ছাগল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি এবং ভেড়া ৪৭ হাজার ৭২৪টি। জেলায় চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি পশুর।

বগুড়া জেলায় ৫১ হাজার ৭৬৪টি খামারে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৮৪টি গরু, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল ও ৪৮ হাজার ২৯টি ভেড়া লালনপালন করা হয়েছে। জেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭টি। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি।

জয়পুরহাট জেলায় ২৩ হাজার ১৫২টি খামারে মোট ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪টি গরু, এক লাখ ৩৬ হাজার ২৯১টি ছাগল এবং ৫০ হাজার ৯০টি ভেড়া রয়েছে। চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি পশুর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে কোনও সংকট হবে না। বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খামারিরা জানান, কয়েক মাস ধরেই তারা কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনেই এবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খামারি আব্দুল মালেক বলেন, আগেভাগেই দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালনপালন শুরু করেছি। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তবে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।

তানোর উপজেলার খামারি সুজন আলী বলেন, ছয় মাস আগে পরিকল্পনা করে গরু পালন শুরু করি। খাদ্যের দাম নিয়ে শুরুতে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। এখন পশুগুলো বিক্রির উপযোগী হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

পবা উপজেলার খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ কিছুটা বেশি পড়েছে। তারপরও কোরবানির বাজারে পশুর ভালো চাহিদা থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

একই উপজেলার খামারি আবদুল কাদের বলেন, আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। খরচ বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

দুর্গাপুর উপজেলার খামারি জহরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির পশু পালন বড় আয়ের সুযোগ তৈরি করে। এবার তার খামারে ১২টি গরু রয়েছে, যা ঢাকার হাটে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত সবুজ ঘাস খাইয়ে পশুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসজে পদ্মা অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মেহরাব হোসেন বলেন, কোরবানির জন্য শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিক্রিও হয়েছে। তাদের খামারের পশু সরাসরি খামার থেকেই বিক্রি করা হয়। ক্রেতারা এসে পছন্দ অনুযায়ী পশু কিনে নিয়ে যান।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে দেশীয় পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারও চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু রয়েছে। গত বছরের তুলনায় চাহিদা প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। রাজশাহীর পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি সেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

খবর২৪ঘন্টা/এসএফ

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

Developed By Khobor24ghonta Team