
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকাসক্তিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষক (মেন্টর) তৈরিতে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার (১৫ জুন) বগুড়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বগুড়া।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) মো. রমজান আলী আকন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়ার উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান। এ সময় পরিদর্শক মো. সামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মনোনীত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল তুলে ধরা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর মেন্টরশিপ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন, তবে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী গণসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।