ফেনীতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ২ হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) রাতে এ ফেনী মডেল থানা পুলিশ বাদি হয়ে দুথটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির পদযাত্রা শহরের দাউদপুল এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কস্থ ইসলামপুর রোডের সামনে পৌঁছলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহের সময় দৈনিক দৃষ্টান্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপার্সন (ব্যক্তিগত) জহিরুল আলম কামরুলসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি আহত হন। আতংকে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ফেলে।
পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় থেমে থেমে ৭-৮ টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ফেনী শহরে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কিছু স্থাপনা ভাঙচুর করে। এ সময় ফেনী প্রেস ক্লাব, কয়েকটি ব্যাংক, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
ফেনী পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ফেনীতে সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর আক্রমণ ও বিস্ফোরক আইনে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ২ হাজার জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিএ/