রাজশাহী দুর্গাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ডিজিএম কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের (ডিজিএম) আরিফুল কবীর মুহাম্মদ শোয়ায়েব নিরাপত্তা চেয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জানা গেছে, ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মোজাহার আলীর বাড়িতে ৪টি মিটারের অধিনে ৩টি মিটারে ৩২ মাসের মোট ৪১হাজার ৩৭৩ টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া পড়ে। সংশ্লিষ্ট অফিস হতে একাধিকবার বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিষদ করা জন্য নোটিশ করা হয়। এরপর গত ১৫ জুন বিল পরিষদ না করায় চেয়ারম্যানের বাড়ির ২টি মিটার হতে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন করে দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। যার মিটার নম্বর ০৪৫/১২০ ও ০৪৫/১৩০। এর পর চেয়ারম্যান মোজাহার আলী বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এমনকি ইসি সাহাদাত হোসেন ও লাইনম্যান আরিফুল ইসলামকে গালিগালাজ করেন।এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কয়েকদিন পরেই তিনি নিজে মিটার বিহীন বিচ্ছিন্ন সংযোগ স্থানীয় টেকনিশিয়ান দ্বারা জুড়ে নেন। যা বিদ্যুৎ বিভাগের আইনে নিয়মবহির্র্ভত ও অবৈধ। অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার কারনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে তাকে নিষেদ করা হয়। এরপর চেয়ারম্যান মোহাজার আলী এক পর্যায়ে খিপ্ত হয়ে তার মোবাইল ফোন থেকে গত ১০ জুলাই সকালে দুর্গাপুর পাল্লী বিদ্যুৎএর জোনাল অফিসের ডিজিএম আরিফুল কবীর মুহাম্মদ শোয়ায়েবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
পরে ডিজিএম অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি নেন। এসময় স্থানীয় নেতার অনুরোধে তিনি সাধারণ ডায়রি করেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার সকালে দুর্গাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে লাগানো অবৈধ বিদ্যুৎ সয়যোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটির ও তার খুলে নেয়া হয়। উল্লেখ্য অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। তার মাধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের এক কর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানিও। মোজাহার আলী আওয়ামীলীগের একজন নেতা। তার বিরুদ্ধ্যে বর্তমান থানায় কয়েকটি মামলাও রায়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা ওয়ারেন্টও ইস্যু হয়েছে। এবিষয়ে দুর্গাপুর আরিফুল কবীর মুহাম্মদ শোয়ায়েব বলেন, আমার চাকরি জীবনে আমি এমন গ্রাহক দেখিনি। মোজাহার আলী একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হয়ে যে পরিচয় দিয়েছেন এটি একজন সুস্থ্য মানুষের দ্বারা সম্ভব না। বকেয়া বিল পরিষদ করতে বলাটাইকি আমার অপরাধ? তিনি আমাকে প্রাণনাষের হুমকিসহ যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা একজন জনপ্রতিনিধি দ্বারা আশা করা যায় না। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ কার হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এস/আর