1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : অনলাইন ভার্সন : অনলাইন ভার্সন
  6. [email protected] : omor faruk : omor faruk
  7. [email protected] : R khan : R khan
নির্বাক মৃত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের মা, সুবিচার চাইলেন বাবা - খবর ২৪ ঘণ্টা
শনিবার, ১১ জানয়ারী ২০২৫, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

নির্বাক মৃত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের মা, সুবিচার চাইলেন বাবা

  • প্রকাশের সময় : বৃস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

নির্বাক মা শিরিন আক্তার। নিথর হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো তাঁর নয়নের মণি নুসরাত জাহান রাফিকে। বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা কিছুক্ষণ পরপর হাউমাউ করে কেঁদে উঠছিলেন। বলছিলেন, ‘আহা! আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। ওরা আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ি মারল।’ ছোট ভাই রায়হানের বুকফাটা কান্না। মুখে কোনো কথা নেই তাঁর। এমন দৃশ্য বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।
তখন রাত ১১টা। ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে (সাড়ে ৯টা) মারা গেছেন নুসরাত জাহান। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর অচেতন মা শিরিন। বার্ন ইউনিটের দুইতলা থেকে স্ট্রেচারে করে শিরিনকে নেওয়া হলো ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে। বাবা মুসা তখনো বার্ন ইউনিটের দুইতলায়। অনেকেই তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। মুসা শুধু বলছিলেন, ‘আমার মেয়ের জীবন ওরা কেড়ে নিল।’ মেয়ে নুসরাতের জন্য দোয়া চাইছিলেন তিনি। তখন নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলছিলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের ভাই রায়হান হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। ছেলের কান্না দেখে বাবা মুসাও কাঁদতে থাকেন। আর বলছিলেন, ‘আমি বিচার চাই। ন্যায়বিচার চাই।’ মুসা তখন বার্ন ইউনিটের লিফট দিয়ে নিচে নামছিলেন। লিফটের ভেতরে মেয়ের নাম বলে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আমি সুবিচার চাই। আইনে যে শাস্তি আছে, সেই শাস্তি চাই।’ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলে ওঠেন, ‘চাওয়া–পাওয়া একটাই, সিরাজ উদ দৌলার ফাঁসি চাই। আর কিছু চাই না।’

রাত সাড়ে ১১টার পর গাড়িতে করে মুসা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে যান। যাওয়ার আগে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। আমি সুবিচার চাই।’ তখন নুসরাতের মাকে দেখা গেল অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। নুসরাতের খালাতো বোনসহ আরও দুজন তাঁকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তখনো অচেতন তিনি। নুসরাতের খালাতো বোন প্রথম আলোকে বলেন, নুসরাতের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর থেকে কোনো কথা বলছেন না খালা শিরিন আক্তার। ডাকে সাড়াও দিচ্ছেন না।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। নুসরাতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, সেদিন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।। গত শনিবার গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল।

এর আগে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হ‌য়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফু‌সের মারাত্মক সংক্রমণ থে‌কে কা‌র্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্‌যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল।

এর আগে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হ‌য়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফু‌সের মারাত্মক সংক্রমণ থে‌কে কা‌র্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্‌যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

খবর ২৪ ঘন্টা/আর

পোস্টটি শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

Developed By SISA HOST