খবর২৪ঘণ্টা.কম, ডেস্ক: বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে; যাদের অধিকাংশই ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৩ জন, জামালপুরে ২ জন, রাজবাড়ীতে ১, হবিগঞ্জে ১, রাজশাহীতে ৩, ঈশ্বরদীতে ১, মৌলভীবাজারে ১ ও সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বজ্রপাতে হাসেম মোল্লা (১৭) ও রফিকুল ইসলাম (৩৩) নামে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার ভোলাব বন্দের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসেম মোল্লা ওই এলাকার কামাল মোল্লার ছেলে ও রফিকুল ইসলাম একই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বজ্রপাতে ওবায়দুল হক (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুসারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল জামপুর ইউনিয়নের মুসারচর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুর
জামালপুরের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন-জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে বকুল মিয়া (২২) ও সরিষাবাড়ি উপজেলার শিবপুর গ্রামের আলেপ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৬)।
সরিষাবাড়ির মহাদান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল বলেন, “গ্রামের একটি জমিতে ধান কাটছিলেন হাবিবুর। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।” আর উলিয়া পাইলিং ঘাটে ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই বকুলের মৃত্যু হয় বলে ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান।
রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় বজ্রপাতে মো. মতিন শেখ (৪৬) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা ঝাউডাঙ্গি গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। মতিন শেখ ওই গ্রামের মতি শেখের ছেলে।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শামসুল হক উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার গাজী আবদুর রহমানের ছেলে।
রাজশাহী
বজ্রপাতে রাজশাহীতে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নগরীর মতিহার এলাকা এবং পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে বেগুনের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় বজ্রপাত হলে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলী নামের এক কৃষক ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময় মাঠে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যায় গোদাগাড়ী উপজেলার আয়নাপুকুর গ্রামের কৃষক বাবলু। এ ছাড়া বজ্রপাতে নগরীর মতিহার এলাকার এক ইটভাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
পাবনা
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মা নদীর গাইড ব্যাংক এলাকায় ঝড়ে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে নাজিম হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি উপজেলার ‘হঠাৎপাড়া’ এলাকার দিনমজুর। বজ্রপাতে তার মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম শহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তমিজ উদ্দিন (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা ৩টি গরুও ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তমিজ উদ্দিন আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের হাজী আব্দুল মতলিবের ছেলে। তিনি ওমান প্রবাসী বলে জানা গেছে।কমলগঞ্জ থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে ইয়াহিয়া আহমদ (৪২) নামে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের মৌগাঁও বাগেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক আহত হন। ইয়াহিয়া সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রায়পুর গ্রামের ইলিয়াছ আলীর ছেলে এবং আহত আব্দুল্লাহ একই গ্রামের ওয়াতির আলীর ছেলে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার (২৯ এপ্রিল) সারাদেশে বজ্রপাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
খবর২৪ঘণ্টা.কম/নজ