
পাবনা (ঈশ্বরদী) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৩ হাজার ২০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ, সার এবং লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন উপলক্ষে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান হিরোক, সুজন কুমার রায়, ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আজম, জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফিজুর রহমান, মাসুদ রানাসহ উপকারভোগী কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের দেওয়া বীজ ও সার জমিতে যথাযথভাবে যেন ব্যবহার হয় এ ব্যাপারে কৃষকদের আহবান জানিয়ে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও ফসলের দ্বিগুণ উৎপাদনে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। কৃষকরা যাতে স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সারা দেশের কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। সরকার এবং আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছি। কেননা কৃষকেরাই ফসল উৎপাদনের মূল কারিগর। তিনি কৃষকদের বিনামূল্যের সরকারি প্রণোদনা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মোট ৩২শ’ কৃষকের মাঝে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ, ডিএপি এমওপি সার, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, সার ও লেবু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ প্রণোদনার আওতায় উপজেলার মোট ১ হাজার ৬২ দশমিক ৬ একর জমিতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১ কেজি করে গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি, ১০ কেজি করে এমওপি সার, ১ কেজি করে বালাইনাশক ও ২ কেজি পলিথিন প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া লেবু বাগান স্থাপনের জন্য ২০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচটি করে উচ্চফলনশীল লেবুর চারা এবং ৩০ কেজি করে জৈব সার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও বসতবাড়িতে সবজি চাষে উৎসাহিত করতে ২ হাজার ৭০০ জন কৃষককে খরিপ মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজির বীজের সঙ্গে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদী অঞ্চলে এর আগেও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও লেবু চাষ করে কৃষকরা সাফল্য পেয়েছেন। ভালো বাজারদর পাওয়ায় এসব ফসলে কৃষক লাভবান হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবার প্রণোদনার পরিধি বাড়িয়ে কৃষকদের নতুন করে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।