
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বগুড়ায় ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে ডিএনসি বগুড়ার উদ্যোগে জেলার ১২টি উপজেলার ১৩টি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, বগুড়া জেলার ১৯টি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিবৃন্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, সবুজায়নের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব, তেমনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখাও সম্ভব।
বৃক্ষ বিতরণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং মাদকের কুফল, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধিতে মাদকের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমান প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকবিরোধী আন্দোলনকে কেবল সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে কাজ করছে না, বরং সচেতনতা সৃষ্টি, পুনর্বাসন এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেও জনগণকে সম্পৃক্ত করছে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের এই আয়োজন সেই সচেতনতার বার্তাই মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”
খবর২৪ঘন্টা/জগসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।