
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তবে অভিযানের সময় মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর পৌনে চারটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার ইসবপুর গ্রামের ডি জি এম ব্রিকস নামের ইটভাটার সামনে তিলকপুর-সান্তাহার হবির মোড়গামী সড়কে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া ‘খ’ সার্কেলের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রামের যোগেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায় (২৭) মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে লালমনিরহাট থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানকারী দল ঘটনাস্থলে চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে চেকপোস্ট দেখতে পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নম্বরবিহীন লাল রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে এর ট্যাংকি ও সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি কালো কাপড়ের ব্যাগ থেকে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ সময় গাঁজাসহ মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন নম্বর DHGBTG24942 এবং চেসিস নম্বর MD2DHDHZZTCG25744।
এ ঘটনায় পলাতক স্বপন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আসলাম আলী মণ্ডল বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসি নিরলসভাবে কাজ করছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএনসি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।