
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দ্রুত ও সহজ বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি ধরনের ক্ষুদ্র বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে জনমুখী করতে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছাবে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে। তিনি বলেন, নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনগণ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে জন্য গ্রাম আদালতের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার শাখার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উপপরিচালক মো. মহিনুল হাসান।
তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর-মার্চ সময়কালের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেন।
সভায় জানানো হয়, রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়নে বর্তমানে গ্রাম আদালত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট ৯ হাজার ২২০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে ৮ হাজার ৪৪৯টি এবং জেলা আদালত থেকে প্রেরিত ৭৭১টি মামলা। দায়েরকৃত মামলার মধ্যে পুরুষ আবেদনকারী ৬ হাজার ৫২৮ জন এবং নারী আবেদনকারী ২ হাজার ৬৯২ জন। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৪২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বর্তমানে ২০৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৩৩৪ জন নারী গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আবছার সবুজ। সভায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান গ্রাম আদালতের সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভিডিও উপস্থাপন করেন। আরো বক্তব্য রাখেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মারুফ আহমেদ। সভা শেষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার তিনটি উপজেলা ও আটটি ইউনিয়নকে পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা প্রথম, বাগমারা দ্বিতীয় এবং পুঠিয়া উপজেলা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এছাড়া গোবিন্দপাড়া, নিমপাড়া, বানেশ্বর, পারিলা, দেলুয়া বাড়ী, নওপাড়া, তালন্দ ও দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ পুরস্কৃত হয়।
খবর২৪ঘন্টা/এসএফ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।