বিশেষ প্রতিবেদক :
আগামীকাল ৫ জানুয়ারীর কর্মসূচী থেকে আড়াল হতে বিএনপির রাজশাহী জেলা সভাপতি এ্যাড. তোফাজ্জল হক তপু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন চিকিৎসার অজুহাতে আগেভাগেই ভারতে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। দলের বড় কর্মসূচীতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি থাকা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সূষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় এ নিয়ে নেতাকর্মীরা তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, ৫ জানুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবছরই কর্মসূচী দেওয়া হয়। তারা ৫ জানুয়ারীকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আর সেই কর্মসূচীতে পুলিশের অনুমতি থাকে না। ঢাকায় বিভিন্ন টালবাহানার পর অনেব শর্তে অনুমতি দিলেও বাইরে পুলিশ অনুমতি দেয়না। এমনকি মিছিল বা ঘরো সভাতেও বাধা দেয়। কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের ভয় থাকে। সেজন্যই গা বাচাতে দুই নেতা চিকিৎসা অজুহাতে ভারতে চলে গেছে। কর্মসূচী পার হয়ে গেলেই তারা আবার ফিরে আসবেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে রাজশাহী জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, গত ২ জানুয়ারী জেলা সভাপতি এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন তপু তার মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে ভারত চলে যান। ৫ জানুয়ারীর কর্মসূচীর ব্যাপারে কোন নির্দেশনা না দিয়েই।
তপুকে সভাপতি করে জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং বেশি শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা ভাগ হয়ে গেছে। বিএনপির একাধিক গ্রুপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলেও গ্রুপিং তৈরি হয়েছে। কারো কর্মসূচীতেই কাউকে পাওয়া যায় না। সবাই ভাগ হয়ে গেছে।
সভাপতি হিসেবে তারই দায়িত্ব এসব ঠিক করে দলকে সুসংগঠিত করা। কিন্তু তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন না। যার কারণে যে যার মত ইচ্ছা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে দল দূর্বল হয়ে পড়বে। দলীয় স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য তপু কাজ না করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করছেন।
নেতাকর্মীদের সাথে না মিশে তিনি পছন্দের লোকদের সাথে মিশে সভাপতিত্ব করছেন। যা দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী। এটা চলতে দেওয়া যায় না। অনেক কর্মসূচীতেই জেলা সভাপতিকে দেখা যায় না। এটা হওয়ার কথা নয়।
গত কয়েকটি কর্মসূচীতে তাকে দেখা যায়নি। হাতেগোনা দু’একটি কর্মসূচীতে থাকলেও তাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে চায় না। যার ফলে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাংশ মহানগরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু ও মিলনের ইশারায় চলে। জেলার রাজনীতি করলেও তারা মহানগরের নেতাদের কথায় চলে। তাদেরকেই অতিথি করে। এসব বিষয় কেন হয় তা নিয়ে বসে দলে শৃঙ্খলা আনতে করণিয় ঠিক না করে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির কর্মসূচী ছিল। তার আগে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তপুকে পাওয়া যায়নি।
৫ জানুয়ারীর কর্মসূচী থেকে বাঁচতে অনেক কর্মসূচীতে উপস্থিত না হয়েই তিনি চিকিৎসার কথা বলে ভারত চলে যান। দলের একজন সভাপতির এমন আচরণ হতে পারে না। তাই তারা বিষয়টি হস্তক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নগর বিএনপির নয়া কমিটিতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও এ্যাড. শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকেই নগর বিএনপিতেও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নেয়। মিলন দলীয় শৃঙ্খলার কথা চিন্তা না করেই শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্য গ্রুপিং করেন। প্রথমে সভাপতি ও সেক্রেটারীর মতানৈক্য না থাকলেও সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়।
তারপরও মিলন অন্য গ্রুপের সাথে কাজ করে। জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাংশকে নিজের আয়ত্বে রাখেন। এভাবেই তিনি বিভেদ সৃষ্টিতে কাজ করেন।
কেন্দ্র থেকে বিএনপির যত কর্মসূচী এসেছে প্রত্যেকটাই মালোপাড়ার দলীয় কার্যালয়ের সামনে সীমাবদ্ধ ছিল।
এমনকি নগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সভাপতি ও রাসিক মেয়র
বুলবুলের অনুসারী হওয়ায় মিলন সেই অনুষ্ঠানে যাননি। আর চিকিৎসার অজুহাতে ভারত চলে গেছেন।
আরো অভিযোগ রয়েছে, দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন হলেও মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কোন সদস্য সংগ্রহ অভিযান হয়নি। যেটি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও অবগত বলেই তারা দাবি করেন।
নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা খবর ২৪ ঘণ্টাকে বলেন, তিনি চিকৎসা করাতে যাবেন সেটা ভাল কথা কিন্তু বড় কমূসূচীর পরেই যেতে পারতেন। কর্মসূচী থেকে বাঁচতেই চলে গেছেন।
এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাই তারাও বিষয়টি দেখার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমি ট্রেনে আছি। পরে কথা বলবো।
খবর২৪ ঘণ্টা/আর