নিজস্ব প্রতিবেদক : দু’দফা সরকারী নির্দেশনার পরও রাজশাহী মহানগর ও আশেপাশের উপজেলার বাজারগুলোতে ৩৫ টাকা কেজি দরে মিলছেনা আলু। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমত আলু বিক্রি করছেন। সরকারী নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কায় করছেনা ব্যবসায়ীরা। আর সকারের বার বার নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা বলছেন, সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়ন হবে না বা ব্যবসায়ীরাই কেন মানবেনা তা আমাদের বোধগম্য নয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আবহান জানান তারা। বাজারগুলোতে খুচরা ব্যবসায়ীরাও যে যার মতো দামে আলু করছেন। কেউ কেউ ৫০ টাকা কেজি দরে আবার কেউ ৪৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করছেন। তবে টিসিবি নগরীর বিভিন্ন
স্থানে নির্ধারিত ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছে। আলুসহ অন্যান্য পণ্য কম দামে কেনার জন্য টিসিবির ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের নজরদারি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারী নির্দেশনা পাওয়ার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারী নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্ত ৪/৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সেই দাম কার্যকর হয়নি। অর্থ্যাৎ ক্রেতারা ৩০ টাকা কেজি দরে আলু পাননি। তারপর আবার দ্বিতীয় দফায় সরকার ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির নির্দেশনা দেয়। সেই
নির্দেশনা দেয়ার পর দু’দিন পার হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সাথে সভা করে জেলা প্রশাসক। সভায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার মনিটরিং করছে।
সরজমিনে আজ বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা আলু ৫০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। কোন কোন বিক্রেতা আবার ৫০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি করছেন। এরমধ্যে আবার কেউ কেউ ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। কোন
ব্যবসায়ী সরকারের নির্দেশনায় দেয়া ৩৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করছেনা। ক্রেতারা বিক্রেতারা সরকারের নির্দেশনা দেয়া ৩৫ টাকা কেজির কথা স্মরণ করিয়ে দিলে বিক্রেতারা ক্রেতাদের বলছেন, ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করা সম্ভব নয়। পাইকারি বাজারে বেশি দাম দিয়ে আলু কিনতে হচ্ছে তাদের। আর বেশি কথা বললে বিক্রেতারা ৩৫ টাকা কেজি দিয়ে সরকারের কাছেই আলু কিনতে বলছেন।
নগরীর কোর্ট স্টেশন বাজারে এক আলু বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে এখনো দাম কমেনি। আমাদের বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। বেশি দাম দিয়ে কিনলে লোকসান গুনতে হবে। কম দামে কিনলে কম দামেই বিক্রি করা সম্ভব হবে।
শুধু কোর্ট স্টেশন বাজার নয়, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষèীপুর কাঁচা বাজারেও আলু ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা দেছে। নগরীর সাহেব বাজারেও আলু ৫০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কোন বাজারেই সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছেনা। নগরের বাইরের উপজেলার বাজারগুলোতেও বেশি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির পক্ষ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বুধবার থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে দাম অস্বাভাবিক হারে বেশি হওয়ায় টিসিবির ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের ব্যাপক লাইন দেখা গেছে। অনেক স্থানে ক্রেতাদের লাইন থাকলেও পণ্য শেষ হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কম দামে আলু কিনতে পারেননি এমনও ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এস/আরকে